জীবনে একসঙ্গেই চলাফেরা করেছেন। অথচ কখনো বুঝতেই পারেননি সে আপনার চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও আজ চড়ে ফেলেছে সাফল্যের সিঁড়ি। আর আপনি এখনও অভিযোগ, অসন্তোষে দিন কাটাচ্ছেন।
কেন এমনটা হল বলুন তো? এসব ক্ষেত্রে আমরা সবার আগে দোষ দিয়ে বসি নিজের ভাগ্যের। সত্যিই কি তাই? নাকি আপনাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে নিজেরই কিছু অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি।
"Success is nothing but an attitude"
শুনেছেন নিশ্চয়? তাহলে নিচের নিয়মগুলো
ফলো করুন-
১। ঘুম থেকে ওঠা :
সকালে এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠুন, আমরা দেরি করে উঠি। তারপর সময় না পাওয়ার বাহানা খুঁজি সারা দিন। এদিকে যে কোনও সফল মানুষকে আপনি দেখবেন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে। আপনিও আধা থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে আনুন ঘুম থেকে ওঠার সময়। দেখবেন দিনটা অনেক বড় হয়ে যাবে। প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
2। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তৈরি
সাফল্যের শিখরে
পৌঁছাতে হয়
ধাপে
ধাপে,
একটু
একটু
করে।
সেজন্য
ছোট
কিন্তু
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য
নির্ধারণ করতে
হয়।
কেবল
“আমি
ক্লাসে
ফার্স্ট হবো!”
এমন
ভাবলেই
তো
কাজ
হলো
না!
ফার্স্ট হতে
হলে
কী
কী
করতে
হবে
সেটা
ঠিক
করো।
ক্লাস
লেকচারের নোটগুলো ভালভাবে তুলো।
প্রতিদিনের পড়াটা
প্রতিদিন শেষ
করো।
এভাবে
সুনির্দিষ্ট ছোট্ট
ছোট্ট
লক্ষ্য
পূরণ
করতে
করতেই
একটি
বড়
সাফল্যের দেখা
পেয়ে
যাবে
তুমি!
৩। সকালের নাস্তা অবশ্যই :
সারা দিন শরীর ভালো রাখতে এবং এনার্জি বাড়াতে কিন্তু সকালে ঠিক করে খাওয়া প্রয়োজন। এ দিকে রোজ সকালে দেরিতে ওঠার জন্য আপনি নাস্তা করারই সময় পান না। ব্যস্ততার দোহাই দেবেন না। সফল মানুষরা কিন্তু কখনই সকালের নাস্তা বাদ দেন না। তাই প্রতিদিন উপভোগ করে সকালের নাস্তা করুন।
৪। প্রস্তুতি
পাবলো পিকাসোর কাছে একবার এক মহিলা আবদার করলেন একটি পোর্ট্রেট এঁকে দিতে। তিনি তড়িৎগতিতে ত্রিশ সেকেন্ডে পোর্ট্রেট এঁকে নির্বিকার মুখে বললেন, “এর দাম দশ হাজার ডলার!”
“বলছেন কী আপনি! এত দাম! অথচ আপনার আঁকতে তো লেগেছে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড!”
“কিন্তু এই ত্রিশ সেকেন্ডে আঁকা রপ্ত করতে যে আমার সময় লেগেছে ত্রিশ বছর! তার দাম দশ হাজার ডলার!”
তুমি হয়তো ভাবছো ক্লাসের সেরা ছাত্রটি কতই না মেধাবী, কতই না ভাগ্যবান! কিন্তু এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে যে কত নির্ঘুম রাত পাড়ি দিতে হয়েছে তার খবর ক’জন রাখি? ভাগ্য বলে কিছু নেই, প্রস্তুতি ছাড়া সাফল্য মেলে না।
৫। নিজেক উৎসাহিত করুন :
আলস্য পেয়ে বসতে দেবেন না। সব সময় নিজের লক্ষ্য সামনে রাখুন। হাসির ছবি দেখুন, মন ভাল করে এমন কাজ করুন। বিশ্রাম নিন। যাতে চাপ কমে এমন কাজ করুন। এই ভাবে নিজেকে উৎসাহিত করতে থাকুন। চাপ ধারে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না।
6। বইপড়া
তুমি কি
জানো
সফল
মানুষরা যে
কত্তো
কত্তো
বই
পড়েন
প্রতিদিন? ভাবতে
পারো,
তাঁদের
তো
ক্লাসে
পড়া
দেওয়ার ঝামেলা
নেই,
তাহলে
কিসের
জন্য
বই
পড়েন
তাঁরা?
জ্ঞানের খোরাক
মেটানোর জন্যই
দিনের
একটি
বড়
সময়
বইয়ের
পাতায়
মুখ
গুঁজে
কাটান
তাঁরা।
আব্রাহাম লিঙ্কন,
বিল
গেটস,
এমা
ওয়াটসন সহ
প্রমুখ
ব্যক্তিত্ব আছেন
প্রতিদিন বই
না
পড়লে
ঘুম
হয়
না
যাঁদের!
একটি
বইয়ের
পাতায়
পাতায়
কত
বিচিত্র সব
অভিজ্ঞতা, কত
সহস্র
মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে
দেখার
সুযোগ
মেলে
জগৎটাকে!
৭। ভয় বনাম জড়তা
আপনি সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। আবার যা বলতে চান তা ঠিকমতো বলতে পারেন না। সফল ব্যক্তিরা নিজের ভয়কে জয় করতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আপনি যে বিষয়ে ভয় পান, সে বিষয়টিকে ভয় হিসেবে মনে করলে আজীবনই তা আপনার জন্য জড়তা। ভয় কাটিয়ে জড়তা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
৮। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন :
আপনার ঘর কি অগোছালো? অফিসের
ডেস্কে প্রচুর ফালতু কাগজ? অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিন। বাজে কাগজ বেশি থাকলে কাজের জিনিস খুঁজে পাবেন না। অন্য দিকে ঘর অগাছালো থাকলে আপনার কাজের এনার্জিও কমবে।
৯। রাত জাগবেন না :
তাড়াতাড়ি
ঘুমোতে যান। সুস্থ, সবল থাকতে রাতের ঘুম প্রয়োজনীয়। অকারণে তাই রাত জাগবেন না। ল্যাপটপ বা মোবাইলে গল্প করে সময় নষ্ট করবেন না রাতে। পরিকল্পনা করে কাজ করলে রাত জেগে আপনাকে ফেলে রাখা কাজও করতে হবে না।
১০। কঠোর পরিশ্রম
জীবনে সফলতা
অর্জনের পিছনে
পরিশ্রমের বিকল্প
নেই।
আপনি
যদি
আপনার
কর্মক্ষমতা থেকে
বের
না
হএয়
আসতে
পারেন,
তবে
আপনি
কখনওই
নিজের
লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন
না।
আপনাকে
নিজের
লক্ষ্যের জন্য
কঠোর
পরিশ্রম করতে
হবে।


EmoticonEmoticon